ইউরোপের দেশগুলোয় নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছিল। তবে আগামী বছরের শুরুতে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে পণ্যটির রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা জানান, আটলান্টিক সাগর পথে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির মাধ্যমে মুনাফা করার সুযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। এছাড়া পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এ কারণে সামনের দিনগুলোয় রফতানি কমতে পারে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মধ্যে দামের পার্থক্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩ ডলার ৪০ সেন্টে নেমে এসেছে। সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিনে এ পার্থক্যের পরিমাণ ছিল ৩ ডলার ৪৪ সেন্ট।
জাপানভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান মিজুহো। এ প্রতিষ্ঠানের এনার্জি ফিউচার ডিরেক্টর বব ইয়াগার বলেন, ‘আমার মতে, ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার পার্থক্যই বেশি ও কম রফতানির মধ্যে বিভাজন রেখা।’
উল্লেখ্য, ডব্লিউটিআই ও ব্রেন্টের মধ্যে দামের কম পার্থক্য রফতানিতে লাভের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপের দেশগুলোয় জ্বালানি তেল রফতানি কম লাভজনক হয়ে উঠেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদও কমেছে। ওকলাহোমার কুশিংয়ে প্রধান স্টোরেজ হাবে পণ্যটির মজুদ ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। মজুদ কমে গেলে সাধারণত অভ্যন্তরীণ দাম বেড়ে যায়। ফলে রফতানি তুলনায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নভেম্বরের শেষে ডব্লিউটিআই ও ব্রেন্টের মধ্যে দামের পাথর্ক্য ছিল ব্যারেলে ৪ ডলার ৫০ সেন্ট। ফলে সে সময় আটলান্টিক পথে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বেড়েছিল।